ফেসবুক আসক্তি

আপনি কি ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়েছেন? চেষ্টা করে ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না? তাহলে আজকের এই ব্লগ পোস্ট টি আপনার জন্য। ফেসবুক ব্যবহারের আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য আমরা কি কি করতে পারি সেই বিষয় গুলো নিয়ে টিপস এন্ড ট্রিক দেওয়া হবে।

শুরুর আগে

পোস্ট পড়া শুরুর আগে কিছু কথা বলতে চাই আমি আপনাদের মতো সাধারণ মানুষ আমিও ফেসবুকে আসক্তির মধ্যে থাকতাম কিন্তু মাঝে মাঝে ফেসবুক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অনেকবার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। একটা সময় পর গিয়ে যখন ফেসবুকে বেশি সময় অপচয় করছিলাম তখন আবার চেষ্টা করলাম এবং কিছু নিজের মতো করে পদ্ধতি ফলো করছিলাম যার ফল বেশ ভালোই ছিল। আমি আপনাদের কে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় বলবো চাইলে আপনারে ফলো করতে পারেন। যেহেতু আমি সম্পন্ন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের কে পরামর্শ দিবো তাই কোন ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

ফেসবুক আসক্তি

ইন্টারনেট জগতে ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে আসা হয়েছিল আমাদের কাছে আনার জন্য কিন্তু এখন ঠিক তার বিপরীত হয়। বিষয়টা বিপরীত হওয়ার কারণ হলো আমরা নিজেই! বলুন তো ফেসবুক আমরা ব্যবহার করি নাকি ফেসবুক আমাদের ব্যবহার করছে? অবশ্যই ফেসবুক আমাদের ব্যবহার করছে। কিন্তু ফেসবুক যে আমাদের ব্যবহার করছে সেটা আবার আমাদের কারণেই। শুধু ফেসবুক না ইউটিউব সহ অন্যসব সার্ভিস গুলোও চাই ব্যবহারকারী তাদের ওয়েবসাইট বা সার্ভিস যা বলেন না কেন তা বেশিক্ষণ ব্যবহার করুক।

কারণ আপনি যতো ফেসবুকে সময় দিবেন তত তাদের লাভ। আমরা অনেকেই ভাবেন আমরা ফেসবুক ফ্রিতে চালাচ্ছি কিন্তু আসলে ফ্রিতে চালাচ্ছি নাহ তারা আমাদের কাছে থেকে টাকার চেয়ে মূল্যবান জিনিস নিচ্ছে সেটা হলো সময়। আপনি যত সময় ব্যয় করবেন ততো তাদের লাভ হওয়ার চ্যান্স পারবে। এটি সব কোম্পানিরই বিজনেস পলিসি এটা নিয়ে আমাদের করার কিছু নেয়। কিন্তু আমরা নিজেদের কে কট্রোল করার মাধ্যমে এই আসক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারি তার আগে বের করতে হবে কেন আপনি বা আমি ফেসবুক চালায়?

ফেসবুকে কেন প্রয়োজন আপনার?

ফেসবুক বা অন্য সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার আগে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কেন আমরা এটি ব্যহার করি সেটি।  ব্যক্তির প্রয়োজন ভেদে ফেসবুক ব্যবহারের চাহিদা আলাদা হয়ে থাকে কেউ অবসর সময় কাটানোর জন্য, কেউ তার কাজের জন্য, কারো কারো আবার মনের মানুষের জন্যেও ফেসবুকে গুতাগুতি করে অথবা হুদায় ফেসবুকে কোন কারণ ছাড়ায় ফেসবুক সময় অপচয় করে থাকে। তো এইখান থেকে আমাদের বের করতে হবে কেন আমরা ফেসবুক ব্যবহার করি এবং কতটা জরুরি ব্যবহার করা।

তো আপনার প্রয়োজন এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য বের করার পর আপনাকে এখন ফেসবুক থেকে বিরক্তি কমানোর প্রস্তুতি নিয়ে হবে। ফেসবুকে সময় অপচয় কম করার জন্য অনেকের প্রথম চেষ্টা হয় ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করা কিন্তু তার কিছু দিনের মধ্যে দেখা যায় আমরা আইডি আবার এক্টিভ করে ফেলি। আমাদের সবারই হয়তো মনে এই ফেসবুকে যাচ্ছি না কত জন যে মনে করছে, আমার কাজ আছে ফেসবুকে, কলেজের নোটিশ দেখা লাগবে আরো কত কি মনে হয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন কোন কিছুই হয় না আইডি পুনরায় লগিন করে দেখবেন ঐ একই অবস্থা। যে যার মতো আছে আপনার ইনবক্স ফাঁকা কিছুই নেয়। তাই ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় হবে প্রথমে ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করে দেখা যে কতটা গুরুত্ব আছে ফেসবুকে।

ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

  • ফেসবুক থেকে বিরত থাকার জন্য প্রথম কাজ হবে ফেসবুক আইডি টি Deactivate করে রাখা লম্বার সময়ের জন্য যেমন তিন চার সপ্তাহ। হয়তো শুরু তে সবাই লম্বা সময় ধরে ফেসবুক বন্ধ রাখতে পারবেন তারা ৭ দিনের একটি Challenge নিতে পারেন তারপর যদি থাকতে না পারেন আবার এক্টিভ করলেন। গবেষণায় দেখা গেছে লম্বা সময় ফেসবুক বন্ধ রাখার ফলে ব্যবহারকারী মধ্যে একটা অনেকের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ফেসবুক ফেরার। এই সময় অন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন এতে ফেসবুকে ফেরার আগ্রহ কম হবে। হয়তো ফেসবুকে না আসার ফলে হয়তো কিছু জিনিস আসলেই পাবেন না কিন্তু সেই গুলোর বলিদান দিতে হবেই আসক্তি কমাতে হলে।
  • ফেসবুকে আজে বাজে যেসব গ্রুপ রয়েছে সেই গ্রুপ থেকে লিভ নিয়ে নিন। এইসব গ্রুপের বিভিন্ন কনটেন্ট দেখে আপনার সময় নষ্ট হয়ে থাকে।
  • ফেসবুক অ্যাপ এর পরবর্তীতে আপনি ব্রাউজারে লগিন করে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবেন এতে ফেসবুক বাদে অন্য কিছু ব্যবহার করার সময় নোটিফিকেশন আসবে না আপনি প্রবেশ ও করবেন না।
  • অনেকেই পোস্ট দেওয়ার পর লাইক কমেন্ট চেক করে থাকে কে, কে লাইক করল কে কমেন্ট করল এইসব। যেগুলো ফেক রিওয়ার্ড যা দ্বারা আমাদের কোন লাভ হবে না এটা শুধু আমাদের ফেসবুকে ধরে রাখার একটা সিস্টেম বলা যেতে পারে। তাই যদি আপনার পোস্ট দেওয়ার পর কমেন্ট চেক করার ইচ্ছা তাহলে এটি পরিহার করুন।
  • ফেসবুক অ্যাপের নোটিফিকেশন অফ করে রাখুন এতে আপনি অন্য কিছু ব্যবহার করার সময় বিভিন্ন কিছুর নোটিকেশন আসলে সেই গুলো চেক করার জন্য বার বার ফেসবুকে ঢুকবেন না ঢুকার পরিমাণ টা কম হবে।
  • আপনার যদি কম্পিউটার থাকে তাহলে শুধু কম্পিউটারে ফেসবুক ব্যবহার করুন এতে মোবাইলের মতো বারবার নোটিফিকেশন দিবে শুধু যখন দরকার পড়বে তখনি ফেসবুকে প্রবেশ করবেন।
  • যদি মোবাইলে মেসেঞ্জার ব্যবহার করে থাকেন সেটিও আনইন্সল করে দিন এবং শুধু ব্রাউজার ব্যবহার করুন। আর যদি আনইন্সটল না করতে চান মেসেঞ্জারের নোটিফিকেশন টাও অফ রাখুন সাথে Chat Head টাও অফ রাখুন।

এই ছোট টিপস গুলো ফলো করার চেষ্টা করুন তাহলে আশা করি কিছু টা হলেও ফেসবুক থেকে বিরত থাকতে পারবেন। আর একটি কথা হচ্ছে ফেসবুক থেকে বিরত থাকার যে যতই টিপস ট্রিক দিক না কেন আপনি যদি আমল না করেন তাহলে কাজ হবে নাহ। আপনার হাতে সব কিছু আপনি ফেসবুক কে ব্যবহার করবেন নাকি ফেসবুক আপনাকে ব্যবহার করবে সেটি আপনার চিন্তা করতে হবে। এই আমরা আমাদের কত মূল্যবান সময় গুলো নষ্ট করতে থাকবো? তাই সময় থাকতে সময় অপচয় রোধ করি।

আরো পড়ুনঃ

ইন্টারনেট জগতে যেসব ভুল করা উচিত নয়!

ক্লাউড স্টোরেজ কি ? এটি ব্যবহারের সুবিধা।

Feature Image Credit: Image by Mediamodifier from Pixabay

আপনার কি কোন প্রশ্ন আছে?

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে