অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে

আমরা জানি কি ,বর্তমানে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরণের ভূমিকা পালন করছে যে মাধ্যমে তা হল, অপটিক্যাল ফাইবার! তো, এই অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে? এই বিষয়ে কি কোন ধারণা আছে?

বর্তমান সময়ে শুধু মাত্র তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে, আমরা বিশ্বের যেকোনো দেশে, যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে, মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছি। এই জিনিসটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে। কিন্তু কিভাবে আমরা খুব দ্রুত এই সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমূহ জানতে পারছি, তা জানেন কি?

কিছু সময় আগেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে, কাজের ক্ষেত্রে, তথ্যসমূহ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে, আমাদের বেশ ঝামেলায় পড়তে হত। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবের সাথে সাথে। ছিল না তেমন, তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে, কোন ধরনের নিরাপদ মাধ্যম।

দ্রুত এবং স্বল্প সময়ে তথ্য স্থানান্তর যখন আমাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, ঠিক তখনি আমাদের কাজের ক্ষেত্রে তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আশীর্বাদ-রূপে আবির্ভাব হয়েছে অপটিক্যাল ফাইবার। খুব দ্রুততর সময়ের পাশাপাশি, নিরাপদে, বাধাহীনভাবে ডাটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমানে সকলের পছন্দের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু হল অপটিক্যাল ফাইবার।

অপটিক্যাল ফাইবার কি?

প্রযুক্তির রাতারাতি কল্যাণের ফলে, আজকাল আমরা অপটিক্যাল ফাইবার এর নাম কম-বেশি সবাই শুনেছি। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, অপটিক্যাল ফাইবার মূলত কি? অপটিক্যাল ফাইবার মূলত এক ধরণের তার, যার মাধ্যমে তথ্য নিরাপত্তার সহিত এবং দ্রুততম সময়ে, এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানো যায়।

এটি এক ধরণের পাতলা তার, যা সূক্ষ্ম গ্লাস কিংবা প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি করা হয়ে থাকে। এটি এতটাই সূক্ষ্ম হয়ে থাকে যা, অনেক সময় খালি চোখে দেখতে হলে চুল এর থেকেও বেশ পাতলা মনে হতেই পারে। এটিকে বর্তমানে ডাটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে বেশ কাজে লাগানো হচ্ছে। যখন কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের খুব সাবধানতার সহিত এবং কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠাতে হয় ঠিক তখনি অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করা হয়।

যেহেতু অপটিক্যাল ফাইবার একটি সূক্ষ্ম তার যার মাধ্যমে ডাটা একস্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তর করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ডাটাসমূহ আলোর সাহায্যে সেন্ডার থেকে রিসিভারের উদ্দ্যেশ্যে স্থানান্তর কিংবা প্রেরণ করা হয়। সূক্ষ্ম এই তারের মাধ্যমে ডেটা প্রায় প্রতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ্য কিলোমিটার দ্রুততার সাথে প্রেরণ করা হয়। 

অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে?

অপটিক্যাল ফাইবার কি এ সম্পর্কে আপনারা সকলে নিশ্চয়ই কমবেশি জানে ফেলেছেন এখন। কিন্তু অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে আপনি ঠিক কতটা জানেন?

আলোচনার শুরুতেই বলেছি যে, অপটিক্যাল ফাইবার কোন সাধারণ তার নয়। এর অনন্য এবং অসাধারণ ভূমিকার জন্যই এটি সকলের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মূলত total internal reflection নীতির উপর ভর করে অপটিক্যাল ফাইবার তার সকল কার্যাবলী সম্পন্ন করে থাকে।

মূলত আলোকরশ্মির উপর ভর করে, এক স্থানের তথ্যসমূহ অন্যস্থানে প্রেরণ করা হয়ে থাকে। যেহেতু ক্যাবলের মধ্যে বিষয়টি পরিচালনা করা হয় তাই ক্যাবলের মাধ্যমে তথ্যসমূহ একত্র হয়ে আলোর মাধ্যমে, এক পয়েন্ট থেকে অন্য পয়েন্টে ভ্রমণ করে। ক্যাবলের ভেতরের অংশটি সমান্তরাল নয় বিধায় প্রতি পয়েন্টে পয়েন্টে আলো তার গতিপথ পরিবর্তন করে। এভাবে গতিপথের পরিবর্তন করে আলো তথ্য নিয়ে পুনরায় সামনের দিকে এগিয়ে চলে।

অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে (ভিতরের অংশ)
অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে (ভিতরের অংশ)

উপরের ছবিটিতে দেখুন Light Rays বাঁকা করে দেয়া। মানে একটা সাইডে আলো রিফলেক্ট হয়ে উপর সাইডে আবার রিফলেক্ট হয়। এইভাবে রিফলেক্ট হতে হতে রিসিভারের নিকট যায়। রিসিভার কিন্তু এই আলো গ্রহণ করে না সরাসরি।

মূলত যেখানে ডাটাগুলোকে প্ৰেরণ করা হয়, সেখানে একটি ট্রান্সমিটার যুক্ত করা থাকে। সেই ট্রান্সমিটার তথ্যসমূহ যাচাই করার কাজ পরিচালন করা থাকে। প্রেরিত তথ্যসমূহ যাচাই প্রক্রিয়া ইলেক্ট্রনিক পালস ইমফর্মেশান নামে পরিচিত আমাদের কাছে।

প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবার পর ডাটা কিংবা তথ্যসমূহ ইলেকট্রনিক পালসে থেকে ডিজিটাল আকারে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে রিসিভার সর্বশেষ বাইনারিতে সেই ডাটাকে রূপান্তর করে। যা পরবর্তীতে কম্পিউটার কিংবা কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে আমরা তা দেখতে পায়।

অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা

সুবিধার কথা চিন্তা করেই অপটিক্যাল ফাইবার অন্য যেকোনো ফাইবার কিংবা তার থেকে এগিয়ে রয়েছে সবার আগে। চলুন জেনে নেওয়া যাক অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা সমূহের কথা:

১. ডাটা স্থানান্তর করে দ্রুত গতিতে 

যেখানে অন্যান্য ওয়ারে ডাটা স্থানান্তর করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে রয়েছে অপটিক্যাল ফাইবার। এই ক্যাবল  কতটা দ্রুত গতিতে ডাটা স্থানান্তর করে থাকে যা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ মাইল বেগে প্রেরণ করে থাকে। তাই এই কারণে আজকাল সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজে ডাটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার। 

অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে ভিডিও

২. নিরাপদে ডাটা ট্রান্সমিশনের নিশ্চয়তা 

সাধারণ যখন কোনও ধরণের অফিশিয়াল কাজের ক্ষেত্রে, ডাটা প্রেরণ করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে বিবেচনায় আসে। অপটিক্যাল ফাইবারে ডাটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে, পুরোপুরি নিরাপদ বিধায় বর্তমানে এই ফাইবার ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে। 

৩. আলোর মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সমিশন

যেখানে অন্যান্য ওয়ারে ডাটা প্ৰেরণ করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। সেখানে আলোর মাধ্যমে খুব সহজে ডাটা ট্রান্সমিশন হয়ে থাকে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে। 

৪. আকার এবং বহনযোগ্যতা

অপটিক্যাল ফাইবার আকারে বেশ সূক্ষ্ম এবং ক্ষুদ্র হয়ে থাকে। পাশাপাশি এটি খুব সহজে বহন করা যায় বিধায় আপনি খুব সহজে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। 

৫. সম্ভাবনা নেই পাওয়ার লসের

এটি এমন একটি ফাইবার যার মধ্যে কোন ধরণের পাওয়ার লসের কোন ধরণের সম্ভাবনা নেই। তাই নিশ্চিন্তে কোন ধরণের ঝামেলা ছাড়াই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন এই ফাইবার। 

৬. নেই কোন ধরণের ইলেক্ট্রনিক শর্ট সার্কিট 

এটি সম্পূর্ণ কপার দিয়ে তৈরিকৃত বিধায় এর মধ্যে কোন ধরনের ইলেক্ট্রনিক শর্ট সার্কিট এর সম্ভাবনা নেই। তাই আপনি নিশ্চিন্তে, নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারবেন এই ক্যাবল।

অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে
অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে

অপটিক্যাল ক্যাবলের অসুবিধাসমূহ

সুবিধার পাশাপাশি অপটিক্যাল ফাইবারের বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক অপটিক্যাল ফাইবারের অসুবিধা সমূহের কথা

১. খুবই ব্যয়বহুল

অপটিক্যাল ফাইবার খুব ব্যয় বহুল একটি ফাইবার। বাজারের অন্যান্য ফাইবারের তুলনায় এই ফাইবারের মূল্য কিছুটা বেশি। 

২. রিপেয়ারিং খরচ তুলনামূলক বেশি 

এটি এমন একটি ফাইবার অপটিক্স যার রিপেয়ারিং খরচ তুলনামূলক বেশি। কারণ এর রিপেয়ারিং করার জন্য পুরো ক্যাবলটাও ঠিক করতে হবে। যার জন্য অর্থ তুলনামূলক বেশি খরচ হবার সম্ভাবনা থাকে।

৩. সেটআপ করার জন্য  দক্ষ জনবল প্রয়োজন

এটি এমন একটি ফাইবার যার পুরোপুরি সেটআপ করতেই অবশ্যই দক্ষ লোকের প্রয়োজন হবে। অদক্ষ লোক দিয়ে আপনি কখনো এটি সেটআপ করতে পারবেন না। 

বর্তমান সময়ে তথ্য প্রেরণ এবং তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে অপটিক্যাল ফাইবার। সময়ের সাথে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ফাইবার। তাই আপনি যদি নির্ভুলভাবে এবং সাবধানতার সহিত ডাটা প্রেরণ কিংবা ডাটা আদান-প্রদান করতে চান তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বেছে নিতে পারেন অপটিক্যাল ফাইবার। 

উপসংহার

আশা করি অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে এ নিয়ে আর কোন প্রশ্ন। প্রশ্ন থাকলেও সমস্যা নেই, কারণ কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দিতে পারেন। আর প্রশ্ন না থাকলে, ভিপিএন কিভাবে কাজ করে? লেখাটি পড়তে পারেন।

আপনার কি কোন প্রশ্ন আছে?

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে