রাডার কিভাবে কাজ করে

রাডার অনেকের নিকট বিস্ময়কর একটি জিনিস। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই রাডার কিভাবে কাজ করে?

রাডার হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র যেটি তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে কোন স্থির বস্তু বা কোন চলমান বস্তুর অবস্থান, দূরত্ব, উচ্চতা, দিক বা দ্রুতি বের করতে পারে।

সাধারনত এটি কোন বস্তুর অবস্থান বা দূরত্ব জানতে ব্যবহার করা হয়। এটি রেডিও তরঙ্গ বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে কোন বস্তুর প্রতিধ্বনি বা প্রতিফলিত সংকেত জানতে পারে। নিচে রাডার কিভাবে কাজ করে এই নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে।

রাডার কিভাবে কাজ করে?

কোন বস্তুর অবস্থান জানার জন্য এটি সেই বস্তুর কাছে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তি প্রেরণ করে থাকে এবং সেই বস্তুর প্রতিধ্বনি বা সংকেত পর্যবেক্ষণ করে থাকে। সাধারনত জাহাজ, বিমান, মহাকাশ যান, বৃষ্টি, পাখি বা কোন পতঙ্গ থেকে সংকেত গৃহিত হয়ে থাকে।

রাডার কিভাবে কাজ করে
রাডার কিভাবে কাজ করে

কখনো কখনো রাডার কোন বস্তুর অবস্থান এবং গতি নির্ণয় ছাড়াও বস্তুটির আকার ও কাঠামো ও নির্ণয় করে থাকে। রাডারের প্রধান কাজ হচ্ছে ইনফ্রারেড ও অপটিক্যাল সেন্সিং ডিভাইস এর মধ্যে তুলনা করে, দূরবর্তী কোন বিপদগ্রস্ত বস্তু আবিষ্কার করা। কোথাও কোন ঝড়ের কারণে কোন সমস্যা হলো কিনা সেটি পর্যবেক্ষন করা।

রাডারের নিজস্ব প্রেরকযন্ত্র রয়েছে, যেটি নির্ধারিত স্থানে আলো পাঠাতে পারে। সাধারনত এটি তড়িৎচৌম্বকীয় পদ্ধতিতে কাজ করে, যেটির একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে। এই তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০ মেগা হার্জ থেকে ৪০ গিগা হার্জ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

রাডারের প্রথম ব্যবহার

রাডার প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৩০-৪০ সালের দিকে, একটি মিলিটারি ক্যাম্পে। এটি এখনো বিভিন্ন আর্মড ফোর্সেসে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে, এখন এর কৌশল অনেক উন্নত হয়েছে।

এছাড়াও, রাডার অনান্য বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে, জাহাজের অবস্থান জানতে, পরিবেশ বা দূরবর্তী কোন এলাকার অবস্থা জানতে, মহাকাশীয় কোন কাজে ইত্যাদি।

রাডারের মৌলিক বিষয়

রাডারের একটি ট্রান্সমিটার আছে যেটি অ্যান্টেনার সাহায্যে আকাশে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সংকেত প্রেরণ করে। যখন এই সংকেত কোন বস্তুর সাথে বাধা পায়, তখন রাডার সেখান থেকে বিভিন্ন নির্দেশনায় প্রতিফলন সংকেত পেয়ে থাকে।

এই সংকেত রাডারের অ্যান্টেনায় ধরা পড়ে। অ্যান্টেনা এই সংকেতকে গ্রহকযন্ত্রে প্রেরণ করে এবং সেখানে বস্তুটির একটি ভৌগোলিক অবস্থা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। বস্তুর দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়ে থাকে সময়ের উপর ভিত্তি করে। রাডার থেকে প্রেরিত সংকেতটি বস্তুর সাথে ধাক্কা খেয়ে আবার রাডারে ফিরে আসতে কত সময় লাগছে তার উপর ভিত্তি করে বস্তুটির দূরত্ব বের করা হয়।

বস্তুর অবস্থান নির্ধারণ করা হয় কৌণিক দূরত্ব দিয়ে। যে অবস্থানে সবচেয়ে বেশি শব্দের প্রতিধ্বনি হয় সেটি অ্যান্টেনা নির্ধারণ করে থাকে। এই দূরত্ব ও অবস্থান জানার জন্য ডপলার ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়।

এতক্ষনে রাডার কিভাবে কাজ করে এ নিয়ে ধারণা হয়ে গিয়েছে। এখন, কোন যন্ত্র দিয়ে, রাডার কিভাবে কাজ করে তা জানার পালা।

রাডারের যন্ত্রাংশসমূহ

রাডারের-যন্ত্রাংশসমূহ
রাডারের-যন্ত্রাংশসমূহ

১. ট্রান্সমিটার: এটি হচ্ছে এক ধরনের শক্তি বিবর্ধক। সংকেতটি প্রথমে একটি তরঙ্গ জেনারেটর ব্যবহার করে তৈরি হয় এবং তারপর ট্রান্সমিটারের সাহায্যে বিবর্ধিত হয়।

২. ওয়েবগাইডস: রাডার এর সংকেত প্রেরণের জন্য যে রশ্মি থাকে ,সেগুলোকে ওয়েবগাইডস বলা হয়।

৩. এন্টেনা: এন্টেনা ব্যবহৃত হয়ে থাকে অধিবৃত্তীয় প্রতিফলক হিসেবে।

৪. ডুপ্লেক্সার: ডুপ্লেক্সারের  সাহায্যে নির্ধারিত হয়ে থাকে যে এন্টেনা কখন কিভাবে ব্যবহৃত হবে। প্রেরক না গ্রাহক হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তা নির্ধারিত হয়।

এটি গ্যাসীয় পদার্থপূর্ণ একটি যন্ত্র। যখন গ্রাহক যন্ত্রের কাছে ট্রান্সমিটার কাজ করা শুরু করে তখন এটি একটি শর্ট সার্কিট তৈরি করে থাকে।

৫. রিসিভার: প্রসেসরকে কোন সংকেত তৈরি করতে অথবা নির্ণয় করতে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৬. থ্রেসহোল্ড ডিসিশন: রিসিভারের আউটপুটকে থ্রেসহোল্ড ডিসিশন হিসেবে ধরা হয়।

রাডার কিভাবে রেডিও ব্যবহার করে

যখন রাডার কোন জাহাজ বা কোন বিমানে স্থাপন করা হয়, তখন এতে কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দরকার হয়G যেগুলো রেডিও সংকেত তৈরি করতে পারে, সেই সংকেতকে আকাশে প্রেরণ করতে পারে এবং সেটা কোন বস্তু কর্তৃক গৃহীত হবে।

সবশেষে, সেই বস্তু থেকে যে তথ্য আসবে সেটি দেখাবে এবং তা বুঝতে সাহায্য করবে। ম্যাগনেট্রন হচ্ছে এমন একটি যন্ত্রG যা রেডিও সংকেত তৈরি করতে পারে। এই সংকেত সাধারনত আলোক সংকেতের গতিসম্পন্ন হয়ে থাকে কিন্তু এতে বিভিন্ন ধরনের তরঙ্গ থাকে এবং এর গতিপথ ও দীর্ঘ হয়ে থাকে।

রেডিও সংকেত এন্টেনা থেকে বের হয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৩০০০০০ কিমি গতিতে যায়, যতক্ষন না পর্যন্ত এটি কোন বস্তুর সাথে বাধা পায় এবং কোন সংকেত এতে ফেরত আসে। রাডারের একটি অপরিহার্য যন্ত্র আছে যেটি হলো ডুপ্লেক্সার। এটি একই সাথে এন্টেনাকে প্রেরক ও গ্রাহক যন্ত্রে পরিবর্তন করতে পারে।

রাডারের প্রকারভেদ

১. বাইস্ট্যাটিক রাডার: অনেক বেশি দুরত্ব পরিমাপে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যেমন ভূমি থেকে আকাশ বা এক আকাশ থেকে আরেক আকাশে সেবাবাহিনীরা এটি ব্যবহার করে থাকে।

২. ডপলার রাডার: বিমান পরিচালনা, আবহাওয়া বা স্বাস্থ্যবিষয়ে এটি ব্যবহার করা হয়।

৩. মনোপালস রাডার: বর্তমানে এই রাডারের ব্যবহার নেই।

৪. প্যাসিভ রাডার: এই রাডার প্রায় বাইস্ট্যাটিক রাডারের মতই।

৫. ইন্সট্রুমেন্টেশন রাডার: এই রাডার তৈরি করা হয় বিমান চালনায়, মিসাইল বা রকেট পরিচালনার ক্ষেত্রে।

৬. আবহাওয়া রাডার: আবহাওয়ার অবস্থা জানতে এই রাডার ব্যবহার করা হয়।

৭. ম্যাপিং রাডার: অনেক বড় কোন ভৌগোলিক এলাকা পরিমাপের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এই রাডারের সাহায্যে দূরে বসেই সেই এলাকা পরিবেশ সম্পর্কে জানা যায়।

৮. নেভিগেশনাল রাডার: বাণিজ্যিক জাহাজ বা লম্বা দূরত্বের বিমানে এটি ব্যবহার করা হয়।

রাডারের কাজ

সেনাবাহিনীতে ব্যবহার

  • আকাশপথে বিমানযুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে, লক্ষ্যবস্তুকে ঠিকমত চেনার কাজে এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।
  • মিসাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।
  • মানচিত্রে শত্রুপক্ষের অবস্থান জানার জন্য ব্যবহৃত হয়।

বিমান চলাচল ব্যবস্থায়

  • এয়ারপোর্টে বিমান উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।
  • বিমানকে খারাপ আবহাওয়া সম্পর্কে অবগত করতে ব্যবহার করা হয়।
  • এয়ারপোর্টের ভূমি বা অন্যান্ন যন্ত্রপাতি স্ক্যান করতে ব্যবহৃত হয়।

দূরবর্তী কাজে

আবহাওয়া সম্পর্কিত কাজে বা সমুদ্রের কোথাও বরফ থাকলে তা জানাতে ব্যবহৃত হয়। অথবা কোন পথে গেলে জাহাজ সমতল পথ পাবে সেই দিক নির্দেশনা প্রদান করে।

আকাশপথে

স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গ্রহ নক্ষত্র, উল্কা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। মহাকাশযানকে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

উপসংহার

আশা করি, রাডার কিভাবে কাজ করে এই বিষয়ে আর কোন সংশয় নেই। আর সংশয় থাকলে, কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দিতে পারেন, আমরা উত্তর দিয়ে দিবো ইনশা আল্লাহ।

আপনার কি কোন প্রশ্ন আছে?

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে